দুমকিতে স্কুলের ভিটি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নূতন ভবন নির্মাণে অনিশ্চয়তা

বুধবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৯:১৮ অপরাহ্ণ |

দুমকিতে স্কুলের ভিটি দখল করে অবৈধ স্থাপনা  নূতন ভবন নির্মাণে অনিশ্চয়তা

দুমকি (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর দুমকিতে ৭৩বছরের পুরনো ৭নং মধ্য পাঙ্গাশিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিটিতে টিনশেডের অবৈধ স্থাপনা তুলে জমি দখল করে নেয়ায় টেন্ডারকৃত নূতন ভবনের নির্মাণ কাজে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে ভবনহীন বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে ছয়মাস ধরে দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাশ কার্যক্রমে অবর্নণীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, ৭৩ বছরের পুরানো পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণের পর পরই স্থানীয় জাফর হাওলাদার, বেলায়েত হাওলাদার নেতৃত্বে ৮/১০জনের একটি একটি প্রভাবশালী দুবৃত্ত চক্র গত ২৫মার্চ রাতের আধারে স্কুল ভবনের শূন্য ভিটিতে একটি অবৈধ স্থাপনা (টিনের ঘর) তুলে দখল করে নূতন ভবন নির্মাণ কাজে বাঁধা দিচ্ছেন। প্রভাবশালীদের বে-আইনী বাঁধায় স্কুল ভবনের নির্মাণ কাজ আটকে যায়। বাধ্য হয়ে অস্থায়ী টিনের ছাপড়াঘর তুলে বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বর্তমানের টিনের ছাপড়ার প্রতিটি কক্ষে ২টি ক্লাশ একত্রে বসিয়ে অতিকস্টে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম জানান, দক্ষিন পাংগাশিয়া মৌজার এস.এ ৩২৪ ও ১২৭৮ নং খতিয়ানের ৩৫৮৫ নং প্লটের ওপর বিদ্যালয় ভবনটির অবস্থান। উল্লেখিত দাগ ও খতিয়ানে অবৈধ দখলদারদের কোন সত্ত্ব নেই। উপজেলা প্রশাসনের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনেও তাঁর প্রমান আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত করতেই প্রতিপক্ষরা ব্যক্তিপ্রভাব বিস্তারে অবৈধ দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। অপর পক্ষে জাফর হাওলাদার ও বেলায়েত হাওলাদারের দাবি উল্লেখিত দাগ ও খতিয়ানে তারা ৮আনা অংশের রেকর্ডিও মালিক বিদ্যমান দাবিতে সম্পত্তির দখল নিতে টিনের ঘর তুলেছেন। দুপক্ষের এমন পরস্পর বিরোধী মুখোমুখী অস্থানের কারণে সরকারী বরাদ্দের নূতন স্কুল ভবনের নির্মাণ কাজে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এবিষয়ে প্রতিকার পেতে উপজেলা প্রাথমি শিক্ষা অফিস, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের চিঠি চালাচালির সময় ক্ষেপনে ৬মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক স্কুলটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দুমকির ইউএনও কে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও তা অদ্যাবধি কার্যকর হয়নি। বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সঠিক ভাবে পরিচালনার স্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে বিরোধ নিস্পত্তি করত: নূতন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্কুলের কর্মরত শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি, ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় অভিভাবকরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিলাল সিকদার জানান, জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতায় স্কুলটির ভবন নির্মাণ আটকে আছে। স্কুলটির দাতাদের সাথে অংশিদারী বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা অন্যায় আবদারে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত করছে। তাই স্কুল কম্পাউন্ডের অবৈধ স্থাপণা উচ্ছেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিত প্রতিবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড)কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এসিল্যান্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
দুমকি উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো: আল-ইমরান বলেন, গত মঙ্গলবার (২৭আগস্ট) সরেজমিন স্কুল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনান্তে স্কুল ও মসজিদের জমি বের করা হয়েছে।
#

২০১৮-২০১৯ | পায়রা.ডটকম'র কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development by: Mostafijar