ফেসঅ্যাপ ব্যবহারে বুড়ো: পড়তে পারেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

ফেসঅ্যাপ ১৩ জুলাই নিজেদের হালনাগাদ সংস্করণ ছাড়ে। এরপরই দেশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী অ্যাপটির মাধ্যমে নিজের চেহারা বদল করে ফেসবুক প্লাটফর্মে শেয়ার করতে শুরু করেছেন। অবশ্য থার্ড পার্টি এসব অ্যাপের ব্যবহার নিয়ে অনেক আগে থেকেই ঝুঁকির কথা বলে এসেছেন বিশেষজ্ঞরাঅ্যাপটি তৈরি করেছে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়্যারলেস ল্যাব। ২০১৭ সালে এটি প্রথম ভাইরাল হয়। সে সময় ছিল গম্ভীর মুখের চেহারাকে হাসিতে রূপান্তরিত করে কমবয়সী করে দেয়া, নারী-পুরুষে রূপান্তরিত করা। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকহারে ভাইরাল হয় প্রিজমা নামের একটি অ্যাপ। প্রিজমা আপনার ছবিকে আর্টে রূপ দেয়ার কাজ করত।মূলত ফেসঅ্যাপ অ্যাপটি মানুষের মুখের আকৃতি পরিবর্তন করে ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক ছবি তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপ-স্টোরে থাকা এ অ্যাপটি ২০১৯ সালে এসে ফের ভাইরাল হওয়া শুরু করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অ্যাপ বিনা কারণে ভাইরাল হয় না। এর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে যা লেখা থাকে এটির প্রাইভেসি পলিসিতে। এ স্থানে লেখা থাকে অ্যাপটি ব্যবহারকারী কী কী তথ্য সংগ্রহ করবে এবং এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে। আশঙ্কার কথা এই যে, অধিকাংশ ব্যবহারকারী এসব অ্যাপের প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা রাখে না। ফলে তাদের তথ্য বেহাত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। ফেসঅ্যাপটি তাদের প্রাইভেসি পলিসিতে জানিয়েছে, তারা ব্যবহারকারীর আইপি অ্যাড্রেস, ব্রাউজারের কুকিস, লগ ফাইল, ডিভাইসের বিভিন্ন তথ্য এবং অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। একইসঙ্গে ব্যবহারকারী কোনো ওয়েব পেজ ব্রাউজ করেছে, ব্রাউজারে থাকা অ্যাডঅন সংক্রান্ত তথ্যও নিয়ে থাকে এ অ্যাপটিএর আগে ফেসবুকের মাধ্যমেই তৃতীয় পক্ষের অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি হাতিয়ে নিয়েছে। যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত বর্তায় ফেসবুকের ওপর এবং এ নিয়ে অনেক ‘মাশুল’ গুনতে হয়েছে মাধ্যমটিকে। এতে ব্যবহারকারী কতটা ঝুঁকিতে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপটিতে লগইন করার পর যখন চেহারা বদল করতে যায় ব্যবহারকারীরা তখন তার ফটো গ্যালারির অ্যাক্সেস চায়। একইসঙ্গে ফেসবুকের সঙ্গে অ্যাপটি ব্যবহার করতে চাইলে বা ফেসবুক থেকে ছবি নিতে চাইলে সেটিরও অনুমতি দিতে হয় ব্যবহারকারীকে। এর ফলে অ্যাপটি চাইলেই ব্যবহারকারীর ফটো গ্যালারি নিজেদের জন্য নিয়ে নিতে পারে। একইভাবে ফেসবুকের আইডি-পাসওয়ার্ডও নিতে পারে। এটা একটা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। নিরাপত্তা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আপগার্ড বলছে, এর আগে মেক্সিকোভিত্তিক কালচারাল কালেক্টিভা নামের এক প্রতিষ্ঠান অন্তত ১৪৬ গিগাবাইট তথ্য নিজেদের কব্জায় নিয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর ফেসবুক আইডি, পাসওয়ার্ড, কমেন্ট, লাইক, রিঅ্যাক্শনওই ঘটনার পর ফেসবুকের এক মুখপাত্র বলছেন, আমরা ডেভেলপারদের সঙ্গে করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছি। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের কিছু অ্যাপ এমন সব কাজ করছে যাতে ফেসবুক বিব্রত হচ্ছে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের অন্তত পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। পরে একইভাবে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেয়। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকাও ফেসবুকের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করছিল তখন। ফেসঅ্যাপ নিয়েও ২০১৭ সালে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তোলেন অনেকেইপ্রযুক্তিবিদ জোশুয়া নোজ্জি টুইটারে এ অ্যাপটি সম্পর্কে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ফোনের ফটো গ্যালারিতে অ্যাপটিকে অ্যাক্সেস দেয়ার পর এটি ধীরে ধীরে সব ছবির তালিকা প্রস্তুত শুরু করে। জোশুয়া এরপর দ্রুত এয়ারপ্লেন মোড চালু করে। তিনি মনে করছেন, অ্যাক্সেস দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসঅ্যাপ তাদের সার্ভারে ব্যবহারকারীর সব ছবি আপলোড করে নেয়বিষয়টি নিয়ে ফেসঅ্যাপ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তাদের নিরাপত্তাবিষয়ক নীতিমালায় বলা আছে, অ্যাপটি ব্যবহার করে যে ছবি এবং কনটেন্ট পোস্ট করা হয়, সেগুলোই সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *