সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহে শিম চাষে সাফল্য

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সবজি চাষিদের চোখে-মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। বিষন্নতার ছাপ অনেকটাই ম্লান হয়েছে তাদের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের মধ্য দিয়ে।

সাধারণত শীতকালে শিম চাষ করেন সবজি চাষিরা। এবার নতুন ‘বারি-৪’ ও ‘ইপসা-১’ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের ফলন ভালো হয়েছে। আগাম চাষে ফলন ও দাম- দুটোই তারা পেয়েছেন ভালো। এ কারণে সবজি চাষিরা এবার ভীষণ খুশি বলে জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) উপজেলার লক্ষ্মী কুণ্ডু মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর শিমের মাচা। ছড়ায় ছড়ায় ঝুলছে শিম। অসময়ে শিম চাষ! বিষয়টি জানতে চাওয়া হয় ওই এলাকার সবজি চাষি অমেদুল ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে জমিতে এবার প্রচুর গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-২ প্রকল্পের আওতায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা এ নতুন জাতের শিম চাষ করেছি। তাতে লাভবানও হয়েছি। অনেকে আমাদের দেখাদেখি এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে এর চাষ করেছেন। তারাও এতে লাভবান হওয়ায় শিম চাষ এ অঞ্চলে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বালিয়া ডাঙ্গা গ্রামের আরেক সবজি চাষি আব্দুর রহমান। তিনিও প্রায় দেড় বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, অসময়ে শিম, তাই পোকা মাকড়ের উপদ্রব কম। শীতকালীন শিম চাষের চেয়ে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে রোগবালাই অনেকাংশে কম। তাই ওষুধ ও সার খরচও কম। এ সময় শিমের বাজারদামও ভালো। প্রতিকেজি শিমের পাইকারি মূল্য পেয়েছি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

গ্রীষ্মকালীন শিমের মৌসুম প্রায় শেষ। তিনি বলেন, বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও ইতিমধ্যেই তিন মাসের এ সবজি চাষে আমি দেড় বিঘা জমিতে এক লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছি। এখনো শিমের মাচায় যে শিম ঝুলছে তাতে আশা করছি আরো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারবো।

একই এলাকার সবজি চাষি মণ্টু মিয়া বলেন, শ্রাবণ মাসের প্রথম দিকে এই শিমের বীজ বপন করতে হয়। চারা বের হওয়ার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসা শুরু হয়। দেড় মাস বয়সের গাছ থেকে শিম তোলা শুরু হয়। তিন থেকে চার দিন পর পর শিম তুলে আমরা বিক্রি করি। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই এর আগে সবজি চাষ করে দাম না পেয়ে ঋণে জর্জরিত ছিলাম। এখন আমরা অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-১ (এনএটিপি-২) প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলায় সিআইজি কৃষক সংগঠনের ১২০০ কৃষককে আর্থিকভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষিরা গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। এ প্রকল্প থেকে গ্রীষ্মকালীন শিমের প্রদর্শনী প্রদান করা হয়।

সাজ্জাদ হোসেন আরো বলেন, ‘আমার নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নূর-এ-নবী এবং মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে ওইসব ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবাদুর রহমান শিমের প্রদর্শনী বাস্তবায়নে সর্বদা কৃষক সংগঠনকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। ফলে সিআইজি কৃষক সংগঠনের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের অনেক সবজি চাষি ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ করেছেন এবং তারা আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2019 payra24.com
Design & Developed BY payra24.com