শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে অলোচনার শীর্ষে মোরছালিন

জাহিদ রিপন, বিশেষ প্রতিবেদক।।
ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সপ্তম কংগ্রেস। এর পরপরই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে দলের হাই কমান্ড। তাই সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে এখন
সরব হয়ে উঠেছেন নেতা-কর্মীরা।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর উত্তর-দক্ষিনের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ন পদ পেতে এখন লবিং তদ্বিরে ব্যস্ত
সময় পার করছেন পদ প্রত্যাশীরা। কারা আসছেন সংগঠনের আগামী দিনের দায়িত্বে? এ জিজ্ঞাসা এখন নেতা-কর্মীদের মাঝে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি পদে এখন যে ক’জন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে তার মধ্যে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মোরসালিন আহমেদ রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।

একাধারে তিনি যেমন একজন দক্ষ রাজনীতিক, সমাজসেবক তেমনি দানশীল হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন।

স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন আন্দোলন এবং বিএনপি জামায়াতের দুঃশাসনের প্রতিবাদে বার বার কারাবরনকারী নেতা মোরসালিন আহমেদ’র রাজনীতিতে হা্তে খড়ি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আনোয়ারুল ইসলামের মাধ্যমে। ১৯৯০ সালে বাবুল-মাহাবুব নেতৃত্বাধীন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন বাবুল-কবির নেতৃত্বাধীন কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে।

২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় রাজনীতের গন্ডি ছাড়িয়ে তিনি ঢাকা এসে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার সাংগঠনক দক্ষতা, সততা ও নেতাদের প্রতি গভীর আনুগত্যের কারনে ও আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১২ সালে যুবলীগের ষষ্ঠ কংগ্রেসে তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি পদ দিয়ে মূল্যায়িত করা হয়।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান মোরসালিন আহমেদ অসহায় ও গরীব মানুষের কাছে তিনি আশীর্বাদ। কেননা নিজ এলাকার গরীব ও দুস্থরা ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার সময় অপেক্ষায় থাকে মোরসালিন আহমেদ’র। তিনি মুসলমানদের এ দু’টি বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে আনন্দ ভাগ করে নেন দুস্থ মানুষের সাথে। নিজ এলাকার দলীয় কার্যালয়ে দুস্থদের জন্য তিনি প্রতিবছর শাড়ী, লুঙ্গী, পাঞ্জাবিসহ সেমাই-চিনি ক্রয়ের অর্থ বিতরন করেন।

এছাড়া ঈদ-উল-আযহার সময় পশু জবাই দিয়ে মাংস ভাগ করে দেন দুস্থদের মাঝে। অসহায় গরীব মানুষের রোগ শোকে নিজ অর্থে সেবার ব্রত নিয়ে এগিয়ে আসেন তিনি। তাই তার জন্মস্থান পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) এলাকার মানুষ আন্তরিকভাবেই এবার যুবলীগ ঢাকা মহানগরের আগামী কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় তাকে।

এছাড়া সংগঠনের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুব লীগের শীর্ষ নেতাদের মাঝে হাতে গোনা যে কয়জন নেতাকে দুর্নীতি ও অপকর্ম স্পর্শ করতে পারেনি তাদের একজন মোরসালিন। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি সফলভাবেই তার দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মন্তব্য করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

একাধিক নেতাকর্মী এ প্রসঙ্গে জানান, মোরসালিন আহমেদকে সভাপতি করা হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগকে নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তা সহজেই
দূরীভূত হবে। এখানে নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে নিয়ে এক ধরণের নীরব সমর্থনও কাজ করছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, আহমেদ উল্লাহ মধু, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন
করা গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু, মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আকন্দ ও সাবেক যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার আরিফুজ্জামানও আলোচনায় রয়েছেন।

প্রসংগত, বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বছরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দলীয় কোন্দল, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ক্যাসিনোকান্ডে এ সংগঠনটির ভাবমূর্তি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

এছাড়া নেতাকর্মীরা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে
যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর দুই ইউনিটেও ক্লিন ইমেজের দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ নতুন নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2019 payra24.com
Design & Developed BY payra24.com