বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২:৫২ অপরাহ্ন

নিম্ন আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে পৌঁছালে খালেদার জামিনের আদেশ

পায়রা ডেস্ক ॥
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর তার জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য তার আইনজীবীদের আবেদনের শুনানি শেষে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জরিমানা স্থগিত করে বিচারিক আদালতে নথি তলব করেন। এ নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠাতে হবে। ওই শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করা হয়। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

শুনানিতে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এখানে সংক্ষিপ্ত সাজা। আদালতের রেওয়াজ আছে জামিন পেতে পারেন। এ ছাড়া তিনি বয়স্ক নারী। খুরশীদ আলম খান বলেন, সংক্ষিপ্ত সাজায় জামিন পেতে পারেন, এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। এ ছাড়া তিনি যে অসুস্থ, সেটার স্বপক্ষে কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। এ মামলায় আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

মাহবুবে আলম বলেন, ২০০৮ সালের মামলা। ২৩৭ কার্যদিবসে তিনি ১০৯ বার বিভিন্ন অজুহাতে সময় নিয়েছেন। এ ছাড়া ২৬ বার উচ্চ আদালতে এসেছেন। মোট কথা নয় বছরের মতো মামলাটি চলছে। সুতরাং এখানেও দেরি হবে না, তা বলা যায় না। তাই আপিল শুনানির জন্য এক মাসের মধ্যে পেপারবুক প্রস্তুত হতে পারে। যেমন বিডিআর মামলায় হয়েছিলো। আমাদের কোর্টের সে প্রযুক্তি আছে। আদালত শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের নথি আসার পর জামিন আবেদনের ওপর আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন।

জামিনের জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ৩২টি যুক্তি দেখিয়েছেন। যুক্তিতে বলা হয়, আবেদনকারীর বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। ৩০ বছর ধরে গেঁটে বাত, ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিস, ১০ বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে আয়রন স্বল্পতায়ও ভুগছেন তিনি। তাছাড়া ১৯৯৭ সালে তার বাম হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং ডান পায়ের হাঁটু ২০০২ সালে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। শারীরিক এসব জটিলতার কারণ বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানানো হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন।

রবিবার জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চতুর্থ দিনের মত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। সকালে আদালত বসার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসনের আপিল হাই কোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। দুপুরে তার জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সুতরাং দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করে খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানো হোক।

দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল এ সময় বলেন, খালেদা জিয়াকে যেহেতু হাজির করা হয়নি, সোমবার তাকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হোক। এ সময় খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী আবদুল রেজাক খান হাই কোর্টে জামিন শুনানির অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালতে হাজির করার আদেশ না দিতে অনুরোধ করেন বিচারককে। শুনানি শেষে বিচারক আখতারুজ্জামান শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।

তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। খালেদা জিয়ার একান্ত রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএয়ের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানও এ মামলায় আসামি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2019 payra24.com
Design & Developed BY payra24.com