শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

পার্বত্য নারীদের রক্ষায় বিশেষ সেল গঠনের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক : “বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোয় ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারী ও শিশুদের ওপর যে ধরনের ধর্ষণ এবং নির্যাতন করা হচ্ছে, তা আসলে জাতিগত নিপীড়ন। রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।”

আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধনে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য এমন মন্তব্য করেছেন। খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণ ও বান্দরবানে মারমা তরুণী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে আজকের এই মানববন্ধন হয়।

হিল উইমেন্স ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও বাংলাদেশে আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীদের সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানায় এ তিন সংগঠন।

আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি তোলা হয়। এগুলো হলো- খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, পার্বত্য জেলায় নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নেওয়া, বিশেষ সেল গঠন করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম গ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

২১ জুন খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্কে এক ত্রিপুরা কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়। এই ঘটনায় চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে বাকি অভিযুক্তরা এখনো পলাতক আছে। এর পাঁচ দিন আগে ১৭ জুন বান্দরবানের লামায় নিজ বাড়িতে এক মারমা তরুণীর (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাঁকে হত্যা করা হয়। পরপর এই দুটি ঘটনায় পার্বত্য জেলাসহ দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মানববন্ধনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, ‘পার্বত্য নারীর ধর্ষণের প্রতিবাদে আমরা বহুবার বহুভাবে শাহবাগের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি কিছুই হয়নি। বরং নারীর প্রতি রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনা বেড়েই চলছে, বিচার হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র তার নাগরিকদের দেখে না। এমন রাষ্ট্র আমাদের কাম্য ছিল না, যেখানে নারী ঘরেও নিরাপদ নয়।’

সংহতি বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোয় নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের ধরন ও প্রকৃতি আলাদা। সেখানে বিশেষ আদালত করা যায় কি না, তা প্রশাসনকে ভাবতে হবে। সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলোকেও প্রতিরোধে কর্মকৌশল নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2019 payra24.com
Design & Developed BY payra24.com