মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দুমকিতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে সত্তরোর্ধ মানুষিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা ! দুমকিতে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত। পটুয়াখালী বন্যাকবলিতদের পাশে এবিপার্টি। দুমকির পাঙ্গাশিয়ায় জাতীয় শোক দিবস পালন দুমকির পাঙ্গাশিয়ায় জাতীয় শোক দিবস পালন দুমকিতে তৈলাক্ত কলাগাছ ও সাঁতার প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত দুমকিতে করোনা সচেতনতায় শ্রমিকলীগ নেতা মনিরের ৫ হাজার মাস্ক বিতরণ। ‘এসো গাছ লাগাই শহর সাজাই’ শ্লোগান নিয়ে অক্সিজেনের ফেরিওয়ালারা রোপন করলো গাছ পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্যদের মাঝে এবিপার্টি’র স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন। কুয়াকাটায় সাংবাদিকদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ।

‘সাংবাদিক বলাতে আরও মারধর করে’

কুবি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের বেপরোয়া নেতাকর্মীদের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাব্রী সাবেরিন গালিব। বেপরোয়া ও লাগামহীন এসব ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক লাঞ্ছনাসহ বিভিন্ন সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিজদলীয় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে। তাদের এই উশৃক্সখল ও বেপরোয়া হওয়ার কারণ হিসেবে শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের প্রশ্রয় দেওয়াকে দায়ী করছেন সাংবাদিক নেতারা।
জানা যায়, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাসের কক্ষ ভাংচুর করতে কাজী নজরুল ইসলাম হলে যায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকেরা। এসময় ঐ হলে অবস্থানরত আইন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাব্রী সাবেরিন গালিব পেশাগত কাজে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ ইসলাম গল্প, সহ-সভাপতি দ্বীন ইসলাম লিখন, উপ সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক (বহিস্কৃত) মুনতাসির আহমেদ হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যায়।
পরে ঐ সাংবাদিককে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকরা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসিএইচ) নিয়ে যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকে পরামর্শে তাকে সেখানে ভর্তি করানো হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, ‘আমি পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করতে গেলে আমাকে ৮-১০ জন একসাথে বেধড়ক মারধর করে। তখন আমি তাদের সাংবাদিক পরিচয়ও দিয়েছি। কিন্তু এটা বলাতে আরও মারধর করে। মাথায়, পিঠে, পেটে, বুকে কিল ঘুষি দেয়। আমার ফোনটিও কেড়ে নেয়।’
এর আগে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি অভিযুক্ত বায়েজিদ ইসলাম গল্পকে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক নাহিদুল ইসলামকে স্বস্ত্রীক লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দ্বীন ইসলাম লিখনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এছাড়াও গত ১৪ ডিসেম্বর ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন মুনতাসীর আহমেদ হৃদয়। অভিযুক্তরা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের সমর্থিত নেতাকর্মী।
এসব অভিযোগের পরও গত ২২ নভেম্বর ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে দ্বীন ইসলাম লিখনকে সহ-সভাপতি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা জেনেছি। এই ঘটনায় যারাই জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ বলেন, ‘প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাংবাদিক সমিতি এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছে। বিচারের জন্য সমিতি কঠোর অবস্থানে যেতেও প্রস্তুত রয়েছে।’
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন প্রক্টরিয়াল বডিসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। অভিযোগের পরে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2019 payra24.com
Design & Developed BY payra24.com